রবিবার, ১২ Jul ২০২৬, ০৭:৫৯ অপরাহ্ন

সেই যমজ শিশুদের আর্থিক অনুদান দিলেন ইউএনও

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : বাবা-মা হারানো অসহায় সেই যমজ শিশুদের হাতে এবার ২০ হাজার টাকার চেক তুলে দিয়েছেন হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমী আক্তার।

সোমবার (৪ মে) দুপুর উপজেলা কার্যালয়ে দাদা-দাদির কোলে চড়ে যমজ শিশু আরফিন আক্তার ও আফিয়া আক্তার এ চেক গ্রহণ করে।

এর আগে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখা কর্তৃক সরকারি এ অনুদানের চেকটি দেওয়ার জন্য অনুমোদন আসে।

গত ২৮ মার্চ ‘যমজ শিশু দুটি দাদা-দাদির কাছে বড় হবে’ ২৭ মার্চ ‘বাবার পরে মায়ের মৃত্যু, অসহায় যমজ শিশু’ শিরোনামে রাইজিংবিডিতে দুটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ দুটি প্রকাশ হওয়ার পর অনেকেই শিশু দুটির খোঁজ খবর নিয়েছেন।

দুটি সংবাদই চোখে পড়ে শায়েস্তাগঞ্জের ইউএনও সুমী আক্তারের। বিষয়টি তাকে ব্যাপকভাবে নাড়া দেয়।

৪ এপ্রিল বিকেলে পরিদর্শনকালে বাবা-মা হারানো সেই অসহায় যমজ শিশুর জন্য ঘর তৈরি করে দেওয়ার ঘোষণা দেন ইউএনও সুমী আক্তার। ওই শিশুদের জন্য দায়িত্ব ও মমত্ববোধ থেকে এমন সিদ্ধান্ত নেন ইউএনও।

সে সময় তিনি (ইউএনও) ওই শিশুদের জন্য উন্নতমানের গুঁড়ো দুধের প্যাকেটসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দেন এবং তাদের সেবাযত্ন সম্পর্কে খোঁজ খবর নেন।

এছাড়া শিশুদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সরকারি অনুদানে একটি ঘর তৈরি করে দেওয়াসহ অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার আশ্বাস দেন। এ প্রেক্ষিতে আজ সোমবার (৪ মে) ২০ হাজার টাকার অনুদানের চেক শিশুদেরকে দেওয়া হয়।

ইউএনও সুমী আক্তার জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে শিশু দুটির জন‌্য ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার বিষয়টি জোরালোভাবে দেখা হবে। তারা বড় হওয়ার আগ পর্যন্ত এঘর ভাড়া দিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারবে।

যমজ শিশুর মামা মোস্তফা মিয়া বলেন, ‘আমি আমার ভাগ্নিদের জন‌্য তিন শতক জমি দেব। এ জমিতে ঘর তৈরি করা যাবে।’

উল্লেখ্য, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার চাঁনপুর গ্রামের আব্দুল মতলিব মিয়ার ছেলে নোমান মিয়া (২৬) শুক্রবার (২০ মার্চ) দুপুরে অসুস্থ স্ত্রী ইয়াসমিনকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চড়েন।

অটোরিকশাটি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নূরপুর এলাকায় দুর্ঘটনায় পড়ে। একটি বাস অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই নোমান মারা যান। গুরুতর আহত হন স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার।

পরে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেলে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইয়াসমিনের মৃত্যু হয়।

চার ভাইয়ের মধ্যে নোমান মিয়া দ্বিতীয় ছিলেন। নোমানের রোজগারে সংসার চলতো। ভিটে ছাড়া তাদের তেমন সম্পদ নেই।

ছেলে এবং বৌমাকে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান আব্দুল মতলিব মিয়া ও জামিনা খাতুন। এতিম নাতনিদের নিয়ে এ বৃদ্ধ বয়সে কী করবেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না। এদিকে শিশু দুটিও কেঁদে কেঁদে মা ও বাবাকে খুঁজে বেড়ায়। বর্তমানে বাবা-মা হারানো যমজ শিশুদুটি দাদা-দাদির কাছে বড় হচ্ছে।

এদিকে সোমবার চেক বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন, নূরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মুখলিছ মিয়া, উপজেলা অফিসের সিও হিমাংশু চন্দ্র ঘোষ, হবিগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ফোরামের সিনিয়র সহ-সভাপতি মামুন চৌধুরী, নারী সদস্য কামরুন নাহার প্রমুখ।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com